খেলাপি ঋণে বিশ্বে দ্বিতীয় বাংলাদেশ, প্রতি ১০০ টাকার ঋণের ৩২ টাকাই অনাদায়ী
ঢাকা: দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করেছে, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই খেলাপি বা অনাদায়ী হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ব্যাংকঋণের ৩২.২৬ শতাংশ এখন নন-পারফর্মিং লোন বা খেলাপি ঋণ।
এই পরিস্থিতিতে খেলাপি ঋণের অনুপাতের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দ্বিতীয়। বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। দেশটির NPL ratio বা মোট ব্যাংকঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের অনুপাত ৩৭.৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশের পর রয়েছে আফ্রিকার দেশ চাদ, যার খেলাপি ঋণের হার ৩১.৫১ শতাংশ, এবং গিনি ৩১.১৫ শতাংশ।
১৮.২৫ লাখ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে খেলাপি ৫.৮৯ লাখ কোটি
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান চিত্র আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ বিবেচনায় নিলে।
সর্বশেষ ব্যাংকিং তথ্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকগুলোতে মোট outstanding loan বা বকেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৮ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা খেলাপি বা নন-পারফর্মিং লোনে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো যে ঋণ দিয়েছে, তার বড় একটি অংশ নিয়মিতভাবে ফেরত আসছে না।
সহজভাবে বললে, ব্যাংক যদি ১০০ টাকা ঋণ দিয়ে থাকে, তার মধ্যে প্রায় ৩২ টাকা ২৬ পয়সা এখন খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শুধু তিন মাসের ব্যবধানেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি। মার্চের শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫.৮৯ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছায়।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পরেই বাংলাদেশ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের তুলনামূলক চিত্র বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা তৈরি করেছে।
সর্বশেষ তুলনামূলক তথ্যে দেশগুলোর অবস্থান হলো—
| দেশ | খেলাপি ঋণের হার |
|---|---|
| ইউক্রেন | ৩৭.৩৫% |
| বাংলাদেশ | ৩২.২৬% |
| চাদ | ৩১.৫১% |
| গিনি | ৩১.১৫% |
ইউক্রেনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ক্ষতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের সংকট খেলাপি ঋণের হার বাড়িয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যুদ্ধের মতো কোনো পরিস্থিতি না থাকলেও খেলাপি ঋণের হার প্রায় একই ধরনের ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছানো বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়।
কেন এত বাড়ছে খেলাপি ঋণ?
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো দুর্বল ঋণ যাচাই ও ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া।
ব্যাংকার ও সংশ্লিষ্টদের মতে, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে ঋণ দেওয়ার সময় ঋণগ্রহীতার প্রকৃত ব্যবসায়িক সক্ষমতা, নগদ প্রবাহ এবং ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।
কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক সক্ষমতার চেয়ে প্রভাব, রাজনৈতিক যোগাযোগ বা ব্যক্তিগত সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ঋণ অনুমোদনের অভিযোগও রয়েছে। ফলে এমন অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ পেয়েছে, যাদের সেই ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা পর্যাপ্ত ছিল না।
রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনার অভিযোগ
বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ নিয়ে আলোচনায় বারবার উঠে আসছে ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের বিষয়টি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে যদি ব্যবসার সম্ভাবনা, জামানতের মান, ঋণগ্রহীতার পূর্ববর্তী রেকর্ড এবং অর্থ ফেরতের সক্ষমতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যোগাযোগ বেশি গুরুত্ব পায়, তাহলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ঝুঁকি দ্রুত বাড়ে।
এক পর্যায়ে এসব ঋণের একটি বড় অংশ আদায় করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং তা শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়।
এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের জন্য নয়, পুরো আর্থিক ব্যবস্থার জন্যই ঝুঁকি তৈরি করে।
খেলাপি ঋণ বাড়লে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব পড়ে যেভাবে
অনেকের কাছে খেলাপি ঋণ বিষয়টি শুধু ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতার সমস্যা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে।
ব্যাংক জনগণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে সেই অর্থের একটি বড় অংশ ঋণ হিসেবে বিতরণ করে। কোনো ঋণগ্রহীতা ঋণ ফেরত না দিলে ব্যাংকের সম্পদ আটকে যায়। ফলে ব্যাংকের হাতে নতুন করে বিনিয়োগ বা ঋণ দেওয়ার মতো অর্থের পরিমাণ কমে যেতে পারে।
এর ফলে ভালো উদ্যোক্তারাও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পেতে সমস্যায় পড়তে পারেন।
অন্যদিকে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি পূরণ করতে সুদের হার, সেবামূল্য বা অন্যান্য খরচের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব ব্যবসা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক কর্মকাণ্ডে পড়তে পারে।
আমানতকারীদের জন্যও এটি উদ্বেগের বিষয়
ব্যাংকের প্রধান শক্তি হলো আমানতকারীদের আস্থা। মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখেন এই বিশ্বাসে যে প্রয়োজনের সময় তারা তাদের অর্থ ফেরত পাবেন এবং ব্যাংক সেই অর্থ নিরাপদে পরিচালনা করবে।
কিন্তু ব্যাংকের সম্পদের বড় অংশ যদি খেলাপি ঋণে আটকে যায়, তাহলে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ে।
বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়লে মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট এবং পরিচালনাগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের Financial Stability Report-এও ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে খেলাপি ঋণের বড় পার্থক্য দেখা যায়। ওই প্রতিবেদনে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর gross NPL ratio ৪২.৮৩ শতাংশ এবং পুরো ব্যাংকিং খাতের gross NPL ratio ২০.২০ শতাংশ দেখানো হয়েছিল।
রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোতে পরিস্থিতি আরও কঠিন
খেলাপি ঋণের সমস্যায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি চাপে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর gross NPL ratio ছিল ৪২.৮৩ শতাংশ। একই সময়ে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর gross NPL ratio ছিল ১৫.৬০ শতাংশ।
এতে বোঝা যায়, দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের সমস্যা সব ব্যাংকে সমান নয়। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর একটি বড় অংশের ঋণ আদায় না হওয়ায় তাদের আর্থিক অবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালের শেষে দেশের শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের হাতে মোট gross NPL-এর ৫১.৬৫ শতাংশ এবং শীর্ষ ১০ ব্যাংকের হাতে ৭৪.৮৭ শতাংশ ছিল।
দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে উদ্বেগজনক
বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের হার শুধু বৈশ্বিক তুলনায়ই উদ্বেগজনক নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনাতেও এটি অনেক বেশি।
সাম্প্রতিক তুলনামূলক তথ্য অনুযায়ী—
- ভারত: ২.২%
- ভুটান: ৪.৫%
- মালদ্বীপ: ৫.৫%
- নেপাল: ৫.৬%
- পাকিস্তান: ৫.৮%
- শ্রীলঙ্কা: ৬.৫%
- বাংলাদেশ: ৩২.২৬%
অর্থাৎ প্রতিবেশী ও দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার অনেক বেশি।
এটি বাংলাদেশের আর্থিক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুধু ঋণ আদায় নয়, প্রয়োজন ভালো ঋণ ব্যবস্থাপনা
খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য শুধু পুরোনো ঋণ আদায় করলেই হবে না। নতুন করে যেন দুর্বল বা অযোগ্য ঋণগ্রহীতার হাতে ব্যাংকের অর্থ না যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋণ দেওয়ার আগে ঋণগ্রহীতার—
- ব্যবসার প্রকৃত অবস্থা,
- আয় ও নগদ প্রবাহ,
- সম্পদের পরিমাণ,
- পূর্ববর্তী ঋণের ইতিহাস,
- কর ও আর্থিক নথি,
- জামানতের প্রকৃত মূল্য,
- ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা
আরও কঠোরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে ঋণ বিতরণের পরও নিয়মিত monitoring বা নজরদারি বাড়াতে হবে।
ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা জরুরি
ব্যাংকিং খাতের সমস্যার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি।
ব্যবসায়িক ক্ষতি, বাজার পরিস্থিতি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোনো প্রকৃত উদ্যোক্তা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হতে পারেন। আর্থিক ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিকোণ থেকে এমন পরিস্থিতি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ না করার ঘটনা এক নয়।
যারা প্রকৃত অর্থে সমস্যায় পড়েছেন, তাদের জন্য পুনর্গঠন বা বাস্তবসম্মত পরিশোধ পরিকল্পনা প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু যারা সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধ করছেন না, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ও আর্থিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে
খেলাপি ঋণের হার ৩০ শতাংশের ওপরে উঠে যাওয়া একটি দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত বড় সতর্ক সংকেত।
কারণ ব্যাংকের মূল ব্যবসাই হলো আমানত সংগ্রহ করে তা উৎপাদনশীল খাতে ঋণ হিসেবে দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ ফেরত পাওয়া।
যদি ঋণের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকে ফিরে না আসে, তাহলে ব্যাংকের আয় কমে যায় এবং ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় provision বা সংরক্ষণ বাড়াতে হয়। এতে ব্যাংকের মূলধনের ওপর চাপ পড়ে।
দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে—
বিনিয়োগ → ব্যবসা সম্প্রসারণ → শিল্প উৎপাদন → কর্মসংস্থান → অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
—এই পুরো ধারাবাহিকতার ওপর।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংস্কার কতটা গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করতে হলে খেলাপি ঋণ কমানোর পাশাপাশি ঋণ বিতরণের সংস্কৃতি পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ঋণ অনুমোদন কমিটি, ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার জবাবদিহি বাড়ানো জরুরি।
একই সঙ্গে ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন ও খেলাপি ঋণের তথ্য আরও স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা দরকার। কোনো ঋণগ্রহীতার রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী পরিচয় যেন ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সুবিধা না দেয়—এমন একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প, ব্যবসা, আমদানি-রপ্তানি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে বড় অবকাঠামো প্রকল্প—সব ক্ষেত্রেই ব্যাংকিং খাতের অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
কিন্তু ব্যাংকের অর্থ যদি ঋণ হিসেবে বিতরণের পর বড় অংশ ফেরত না আসে, তাহলে নতুন উদ্যোক্তা ও উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়নের সক্ষমতা কমে যেতে পারে।
তাই খেলাপি ঋণকে শুধু ব্যাংকের হিসাবের একটি সংখ্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, ব্যবসায়িক আস্থা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
শেষ কথা
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ৩২.২৬ শতাংশ খেলাপি ঋণের হার নিঃসন্দেহে একটি বড় সতর্ক সংকেত। সর্বশেষ তুলনামূলক তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। একই সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রায় ৫.৮৯ লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে।
এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শুধু খেলাপি ঋণ আদায়ের উদ্যোগ নয়, বরং ঋণ অনুমোদন, ব্যাংক পরিচালনা, তদারকি, জবাবদিহি এবং ঋণ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন।
কারণ ব্যাংকিং খাতের অর্থ শুধু ব্যাংকের নিজস্ব অর্থ নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কোটি কোটি আমানতকারীর সঞ্চয়, ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ, উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যৎ এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি।
