বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে কম মজুরির চাপ, ক্রেতাদের দরকষাকষি ও মালিকদের সংকট নিয়ে শরিফুর সালেকিন সাহানের বিস্ফোরক বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক | Poripurno.com
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বা গার্মেন্টস শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মূল্য নির্ধারণের নীতি, উৎপাদন ব্যয় এবং কারখানার মালিকদের আর্থিক সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন গার্মেন্টস খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তি শরিফুর সালেকিন সাহান। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে দেশের পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতা, বিদেশি ক্রেতাদের কম মূল্যে পণ্য সংগ্রহের প্রবণতা এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন।
সাহানের দাবি, তিনি ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে তৈরি পোশাক শিল্পে কাজ করেছেন। ট্রেইনি মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে পর্যায়ক্রমে কান্ট্রি ম্যানেজার, সিইও এবং হেড অব অপারেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কারখানা ও বায়িং হাউস—উভয় ক্ষেত্রেই কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। নিট, ওভেন, সুয়েটারসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
তাঁর মতে, বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে কেবল মালিকদের মুনাফা বা শ্রমিকদের মজুরির আলোকে বিচার করলে পুরো বাস্তবতা বোঝা সম্ভব নয়। বরং উৎপাদন ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা, ক্রেতাদের দরকষাকষি, ব্যাংকঋণ, জ্বালানি সরবরাহ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা—সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
একটি টি-শার্ট উৎপাদনে কত খরচ হয়?
নিজের বক্তব্যে শরিফুর সালেকিন সাহান একটি সাধারণ গোলগলা টি-শার্ট উৎপাদনের হিসাব তুলে ধরেছেন।
তাঁর দেওয়া উদাহরণ অনুযায়ী, একটি উৎপাদন লাইনে প্রায় ২২টি মেশিন, ২২ জন অপারেটর এবং তিনজন হেলপার প্রয়োজন হতে পারে। তিনি হিসাবের সুবিধার্থে শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা ধরে ২৫ জনের জন্য মোট ৯ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেছেন।
এর সঙ্গে সুপারভাইজার, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, ফিনিশিং, কাটিং, প্রশাসনিক ব্যয়, বিদ্যুৎ, বিনিয়োগ, বাণিজ্যিক খরচ, যন্ত্রপাতির অবচয় এবং ব্যাংকঋণের সুদ যোগ করলে একটি উৎপাদন লাইনের মাসিক ব্যয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর হিসাব অনুযায়ী, একটি লাইনে মাসে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টি-শার্ট উৎপাদন সম্ভব। প্রতি ডজন টি-শার্টের বিপরীতে ৩ ডলার মজুরি পাওয়া গেলে মাসিক আয় প্রায় ১৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ হয়।
অর্থাৎ, তাঁর দেওয়া উদাহরণে প্রতি ডজন ৩ ডলার মজুরি পাওয়া গেলে উৎপাদন লাইনের আয় ও ব্যয় প্রায় সমান হয়ে যায়। এ অবস্থায় কারখানার মালিকের প্রকৃত মুনাফা করার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত থাকে।
তবে এটি একটি উদাহরণভিত্তিক হিসাব। প্রকৃত উৎপাদন ব্যয় কারখানার দক্ষতা, পণ্যের ধরন, অর্ডারের পরিমাণ, শ্রমিকের মজুরি, উৎপাদনক্ষমতা এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।
আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কম মূল্য দেওয়ার অভিযোগ
সাহানের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আন্তর্জাতিক পোশাক ক্রেতাদের মূল্য নির্ধারণের নীতি।
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের অনেক কারখানা প্রতি ডজন টি-শার্ট উৎপাদনের বিপরীতে মাত্র দেড় থেকে তিন ডলার পর্যন্ত মজুরি পায়। কিছু ভালো কারখানা তুলনামূলক বেশি পেলেও অধিকাংশ কারখানার দরকষাকষির ক্ষমতা সীমিত।
জার্মানির খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান KiK-এর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক মডেল মূলত কম দামে পণ্য সংগ্রহ এবং সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রির ওপর নির্ভরশীল। তাঁর দাবি, KiK-এর কাছ থেকে প্রতি ডজন টি-শার্টের জন্য দেড় থেকে দুই ডলারের বেশি মজুরি পাওয়া কঠিন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কম মূল্য পাওয়ার কারণে কিছু কারখানা এ ধরনের অর্ডার নিতে আগ্রহী হয় না। এমনকি সাবকন্ট্রাক্টের কাজ করেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি আয় করা সম্ভব হয়।
তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে কম মূল্য পাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন, বিদ্যুৎ-গ্যাস, ব্যাংকঋণ এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বহন করতে গিয়ে কারখানার মালিকেরা কঠিন আর্থিক চাপে পড়েন।
বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের পোশাক উৎপাদনমূল্যের পার্থক্য
বাংলাদেশের সঙ্গে ভিয়েতনামের তুলনা করে সাহান বলেন, একই আন্তর্জাতিক ক্রেতা বিভিন্ন দেশে পোশাক উৎপাদনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মূল্য নির্ধারণ করতে পারে।
তিনি জার্মানির আরেক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান C&A-এর উদাহরণ দিয়ে দাবি করেন, ভিয়েতনামের কারখানাগুলো প্রতি ডজন টি-শার্টের জন্য ৬ থেকে ৭ ডলার পর্যন্ত মজুরি পেতে পারে, যেখানে বাংলাদেশে একই ধরনের কাজের জন্য প্রায় ৩ ডলার দেওয়া হয়।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খুচরা বিক্রেতা Walmart-এর বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের আগ্রহের পেছনেও তুলনামূলক কম উৎপাদনমূল্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে তিনি মনে করেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কম দামে পণ্য উৎপাদন করতে পারা। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শুধু কম দামের ওপর নির্ভর করে শিল্পটির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
কারখানার অবকাঠামো উন্নত হলেও বাড়ছে আর্থিক চাপ
সাহান মনে করেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশের অনেক পোশাক কারখানায় উন্নত অবকাঠামো, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং আধুনিক উৎপাদন সুবিধা গড়ে তোলা হয়েছে।
কিন্তু তাঁর অভিযোগ, এসব অবকাঠামো নির্মাণে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করার পরও অনেক কারখানা ন্যায্য উৎপাদনমূল্য পাচ্ছে না।
এ ছাড়া পোশাকের মান, সরবরাহ বা অন্যান্য বিষয়ে ক্রেতাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ক্লেইম, ডিসকাউন্ট এবং মূল্য কর্তনের চাপও কারখানার আর্থিক পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কারখানাগুলোর দরকষাকষির ক্ষমতা তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় অনেক সময় ক্রেতাদের শর্ত মেনে নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না।
শ্রমিক অসন্তোষ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
নিজের বক্তব্যে সাহান শ্রমিক অসন্তোষ এবং শ্রমিক সংগঠনের কিছু নেতার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, শিল্পসংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও মধ্যস্বত্বভোগী বিভিন্ন পক্ষ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষকে জিইয়ে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং শ্রমিক সংগঠনের কিছু নেতার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রামাণ্য নথি বা স্বাধীন তদন্তের ফলাফল উপস্থাপন করেননি। ফলে বিষয়গুলো তাঁর ব্যক্তিগত বক্তব্য ও অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য।
ভারত, ভিয়েতনাম ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সাহান ভারত, ভিয়েতনাম ও চীনের উদাহরণ তুলে ধরেন।
তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষেত্রে ভারতের কিছু কারখানার অবস্থান তুলনামূলক শক্তিশালী। কোনো ক্রেতা অযৌক্তিক ক্লেইম বা ডিসকাউন্টের চাপ দিলে কারখানার মালিকেরা স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রির বিকল্পও বিবেচনা করতে পারেন।
তিনি একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জানান, ভারতের একটি কারখানায় মান যাচাইয়ের সময় একজন কোয়ালিটি কন্ট্রোল কর্মকর্তার সঙ্গে মালিকপক্ষের বিরোধ তৈরি হয়। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, কারখানার মালিক ক্রেতার প্রতিনিধিকে জানিয়ে দেন, পণ্যের মান গ্রহণযোগ্য হলে অর্ডার নেওয়া যাবে, অন্যথায় স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রি করা হবে।
সাহানের মতে, বাংলাদেশের অধিকাংশ কারখানার পক্ষে এ ধরনের শক্ত অবস্থান নেওয়া কঠিন।
ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশকে বড় সুবিধা হিসেবে দেখেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটির তুলনামূলক স্থিতিশীল পরিবেশ আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা বাড়াতে সহায়তা করে।
অন্যদিকে, চীনের উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং শিল্প অবকাঠামোকে তিনি দেশটির দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক শক্তির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গার্মেন্টস মালিকদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক সংকট
সাহান তাঁর বক্তব্যে গার্মেন্টস মালিকদের ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক চাপের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।
তাঁর দাবি, অনেক কারখানার মালিক শ্রমিকদের মাসিক বেতন পরিশোধ, ব্যাংকের ঋণ, বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে পাওনা আদায় নিয়ে নিয়মিত দুশ্চিন্তায় থাকেন।
তিনি বলেন, বাইরে থেকে কারখানার মালিকদের অনেককে বিত্তশালী মনে হলেও তাঁদের অনেকেই ঋণ, উৎপাদন ব্যয় এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটান।
তবে তাঁর বক্তব্যের এই অংশও ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ; গার্মেন্টস মালিকদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে কোনো পরিসংখ্যান তিনি উপস্থাপন করেননি।
ধনী হওয়া অপরাধ নয়, অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জনই অপরাধ
সাহানের বক্তব্যে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কৃতি নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।
তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের সমাজে ধনী ব্যক্তিদের প্রতি একধরনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। অনেকেই ধনী হওয়াকে অন্যায় মনে করলেও নিজেরাও ধনী হতে চান।
তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তি অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন করলে শুধু সেই ব্যক্তিকে দায়ী করলেই হবে না; বরং যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি, ঘুষ, চাঁদাবাজি, অনিয়ম এবং ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে সেই সুযোগ তৈরি করে দেয়, তাদের ভূমিকাও বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, সন্ত্রাসী এবং কিছু গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন।
তাঁর বক্তব্যের মূল কথা, ধনী হওয়া অপরাধ নয়; অপরাধ হলো অন্যায় ও অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন করা।
পোশাক শিল্প রক্ষায় বাস্তবতা বোঝার আহ্বান
বক্তব্যের শেষাংশে শরিফুর সালেকিন সাহান বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিল্পটির প্রকৃত অর্থনৈতিক বাস্তবতা বোঝার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাঁর মতে, গার্মেন্টস শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এই খাতের বড় অবদান রয়েছে।
তাই শিল্পটির সমস্যাগুলো বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে শুধু কারখানার মালিকদের দায়ী না করে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মূল্য নির্ধারণ, উৎপাদন ব্যয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট, ব্যাংকঋণ এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, পর্যাপ্ত তথ্য ও বাস্তব অভিজ্ঞতা ছাড়াই গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দেশের তৈরি পোশাক খাত আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।
বিশ্লেষণ: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শুধু কম উৎপাদনমূল্যের ওপর নয়; বরং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, কারখানার আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষমতা তৈরি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর। মালিক ও শ্রমিক—উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই এ শিল্পের টেকসই অগ্রগতি সম্ভব।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনটি শরিফুর সালেকিন সাহানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি। এতে উল্লিখিত উৎপাদন ব্যয়, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মূল্য, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং দেশভিত্তিক তুলনাগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে এসব দাবি যাচাই করা প্রয়োজন।
