Expat NewsInternational

সৌদি আরবগামী ফ্লাইটে নতুন আপডেট: ইন্ডিগো, আকাসা এয়ার ও এয়ার ইন্ডিয়ার একাধিক ফ্লাইট বাতিল

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে চলাচলকারী একাধিক ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলো। ইন্ডিগো (IndiGo), আকাসা এয়ার (Akasa Air), এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস (Air India Express) তাদের কয়েকটি রুটে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত বা বাতিলের সময়সীমা বাড়িয়েছে।

এর ফলে ভারত থেকে সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরতে ইচ্ছুক প্রবাসী, ছুটিতে দেশে যাওয়া যাত্রী, ওমরাহযাত্রী এবং অন্যান্য ভ্রমণকারীদের যাত্রা পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে।

২৩ অক্টোবর প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্ডিগোর রিয়াদগামী ফ্লাইট ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এবং জেদ্দা, দাম্মাম ও মদিনাগামী ফ্লাইট ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল থাকবে। অন্যদিকে, এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের কয়েকটি সৌদি রুটে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়েছে। আকাসা এয়ারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: Saudi Expatriates, The Economic Times।

১. ইন্ডিগোর ফ্লাইট বাতিলের নতুন সময়সীমা

ভারতের অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা ইন্ডিগো সৌদি আরবের চারটি শহরে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখার সময়সীমা বাড়িয়েছে।

সংস্থাটির প্রকাশিত ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফ্লাইট বাতিলের সময়সীমা হলো:

  • রিয়াদ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত।
  • জেদ্দা: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত।
  • দাম্মাম: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত।
  • মদিনা: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি। যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের টিকিট বুকিংয়ের সময় দেওয়া ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানার মাধ্যমে অবহিত করা হচ্ছে।

নিজের ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জানতে ইন্ডিগোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন:

https://www.goindigo.in/check-flight-status.html

২. আকাসা এয়ারের ফ্লাইটেও পরিবর্তন

আকাসা এয়ারও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবের রুটে ফ্লাইট স্থগিত রাখার সময়সীমা বাড়িয়েছে।

Saudi Expatriates-এর ২৩ অক্টোবরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে:

  • জেদ্দা: ১০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত।
  • রিয়াদ: ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত।

তবে The Economic Times-এর ২৩ অক্টোবরের প্রতিবেদনে আকাসা এয়ারের রিয়াদ ও জেদ্দাগামী ফ্লাইট ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে সময়সীমা নিয়ে পার্থক্য রয়েছে।

এ কারণে যাত্রীদের শুধু সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে আকাসা এয়ারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা কাস্টমার সার্ভিস থেকে নিজস্ব ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

আকাসা এয়ারের যাত্রীদের জন্য রিফান্ড ও পুনরায় বুকিং

বাতিল হওয়া ফ্লাইটের জন্য যোগ্য যাত্রীরা সাধারণত দুটি বিকল্প পেতে পারেন:

১. সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত: প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী মূল পেমেন্ট পদ্ধতিতে টিকিটের অর্থ ফেরত নেওয়া।

২. বিনা অতিরিক্ত ফিতে তারিখ পরিবর্তন: বিমান সংস্থার শর্ত ও আসনপ্রাপ্যতা অনুযায়ী অন্য তারিখে যাত্রা পুনরায় বুকিং করা।

রিফান্ড ও পুনরায় বুকিংয়ের নির্দিষ্ট শর্ত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট কেনা হলে ওই এজেন্সির সঙ্গেও যোগাযোগ করতে হবে।

৩. এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ফ্লাইট আপডেট

এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসও সৌদি আরবের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে।

২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মাম রুটে তাদের ফ্লাইট বাতিলের সময়সীমা ২৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল।

এ ছাড়া নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী যাত্রীদের জন্য একবার বিনা অতিরিক্ত ফিতে ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তনের সুবিধার কথাও জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব যাত্রীর টিকিট ১৫ অক্টোবর ২০২৬ বা তার আগে ইস্যু করা হয়েছে এবং যাত্রার তারিখ ৯ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে, তাঁরা নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে এই সুবিধার আওতায় পড়তে পারেন।

তবে ২৪ অক্টোবরের পর সব ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলবে—এমন নিশ্চয়তা এই তথ্য থেকে পাওয়া যায় না। যাত্রার আগে সর্বশেষ ঘোষণা যাচাই করতে হবে।

এয়ার ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইট: https://www.airindia.com/

এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ওয়েবসাইট: https://www.airindiaexpress.com/

৪. কেন ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে?

সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট পরিচালনা পুনর্মূল্যায়ন করছে।

সাম্প্রতিক হামলা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার পর রিয়াদসহ সৌদি আরবের কয়েকটি গন্তব্যে বিমান চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিমান সংস্থাগুলো যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা বিবেচনায় ফ্লাইট বাতিল, স্থগিত বা সময়সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

তবে সব বিমান সংস্থা এবং সব রুট একইভাবে প্রভাবিত হয়নি। কোনো একটি রুটে একটি সংস্থার ফ্লাইট বাতিল হওয়া মানেই সৌদি আরবের সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ—এমন নয়।

৫. সৌদি আরবগামী যাত্রীদের জন্য জরুরি পরামর্শ

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত থেকে সৌদি আরবগামী এবং সৌদি আরব থেকে ভারতে ফেরার পরিকল্পনা করা যাত্রীদের কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।

ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করুন: বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার ওয়েবসাইটে ফ্লাইট নম্বর দিয়ে সর্বশেষ অবস্থা পরীক্ষা করুন।

ফোন ও ই-মেইল সচল রাখুন: টিকিট বুকিংয়ের সময় দেওয়া যোগাযোগের তথ্য সঠিক আছে কি না নিশ্চিত করুন। ফ্লাইট বাতিল বা পরিবর্তনের নোটিশ এ তথ্যের মাধ্যমেই আসতে পারে।

রিফান্ড ও তারিখ পরিবর্তনের নিয়ম জানুন: টিকিট বাতিল হলে কী পরিমাণ অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে, বিনা ফিতে তারিখ পরিবর্তন করা যাবে কি না এবং বিকল্প ফ্লাইটের সুযোগ রয়েছে কি না—এসব বিষয় সরাসরি বিমান সংস্থার কাছে জেনে নিন।

ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করুন: এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট কেনা হলে পরিবর্তন বা রিফান্ডের জন্য তাদের সহায়তা নিন।

ওমরাহযাত্রীরা বাড়তি সতর্ক থাকুন: ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রার আগে ফ্লাইটের অবস্থা এবং হোটেল, পরিবহন ও অন্যান্য বুকিংয়ের শর্ত যাচাই করুন। প্রয়োজনে ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তনের ব্যবস্থা রাখুন।

বিকল্প টিকিট কাটার আগে নিশ্চিত হোন: মূল ফ্লাইট বাতিল হয়েছে কি না এবং নতুন টিকিটের খরচ কে বহন করবে, তা না জেনে তাড়াহুড়ো করে নতুন টিকিট কিনবেন না।

৬. সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কী করণীয়?

যদিও আলোচ্য ফ্লাইট আপডেটগুলো মূলত ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে চলাচলকারী ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোকে কেন্দ্র করে, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদেরও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা উচিত।

বিশেষ করে যাঁরা ছুটিতে বাংলাদেশে যাবেন, ভারত হয়ে সৌদি আরবে ফিরবেন অথবা ভারত থেকে সংযোগকারী ফ্লাইটে অন্য দেশে যাবেন, তাঁদের টিকিটের রুট ও ট্রানজিটের নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ থেকে সরাসরি সৌদি আরবগামী সব ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে—এই প্রতিবেদনে এমন কোনো তথ্য নেই। বাংলাদেশি যাত্রীদের নিজস্ব বিমান সংস্থা, টিকিটের রুট এবং ভ্রমণের তারিখ অনুযায়ী তথ্য যাচাই করতে হবে।

শেষ কথা

২৩ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের কয়েকটি গন্তব্যে ইন্ডিগো, আকাসা এয়ার, এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ফ্লাইট চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন রয়েছে। তবে বাতিলের সময়সীমা বিমান সংস্থা ও গন্তব্যভেদে আলাদা এবং পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তাই যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করা, বিমান সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজনে রিফান্ড বা পুনরায় বুকিংয়ের সুবিধা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি ২৩ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত সংবাদ ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। ফ্লাইটের সময়সূচি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সর্বশেষ অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button